গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে পোশাক কারখানার উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ডাইং ও নিটিং ইউনিটের কাজ। ফলে সময়মতো শিপমেন্ট দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, কাজ না থাকায় বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটছে অন্তত ২২ লাখ শ্রমিকের।
তিতাস গ্যাসের সরবরাহ লাইনে সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে জ্বালানি হাহাকার শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী লাইনে গ্যাসের চাপ থাকার কথা ১৫ পিএসআই, কিন্তু বাস্তবে মিলছে মাত্র ২ থেকে ৩ পিএসআই। এই সামান্য চাপে ভারি যন্ত্রপাতি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাদ্দামা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মইনুল ইসলাম পলাশ বলেন, "গ্যাসের প্রেসার এতই কম যে আমরা মেশিনারিজ চালাতে পারছি না। উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে।"
স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শত শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। তিনি বলেন, "উৎপাদন কমলে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাবে। আমরা নতুন সরকারের কাছে আবেদন করছি, দ্রুত একটি কার্যকর পলিসি করা হোক যাতে বিনিয়োগ রক্ষা পায়।"
গাজীপুরের ৫ হাজারের বেশি কলকারখানায় কাজ করেন প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক। উৎপাদন বন্ধ থাকলে বা কারখানা লে-অফ ঘোষিত হলে বেতন পাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়বেন তারা। কারখানার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ নেই, ফলে দীর্ঘ লাইন ও যানজটে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের।
রপ্তানিমুখী এই খাতের বিপর্যয় ঠেকাতে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন শিল্পমালিক ও পরিবেশ সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :