উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আকাশচুম্বী চিকিৎসা ব্যয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের একটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তৈরি করা `অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬` এবং `ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬` বাতিল করে তিন দশক আগের ১৯৯৪ সালের নীতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।
এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫টি থেকে কমে মাত্র ১১৭টিতে নেমে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের কারণে ওষুধের দামের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে, যার চরম মূল্য চোকাতে হবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগীদের।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তা অনুসরণ করেনি।
এছাড়া, ওষুধশিল্প মালিকদের করা রিটের কারণে সৃষ্ট আইনি জটিলতা এড়াতেই আগের তালিকাটি বাতিল করা হয়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা নিরাপদ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ নিশ্চিতে কাজ করবে এবং শিগগিরই তালিকাটি পুনরায় হালনাগাদ করা হবে।
তবে সরকারের এই আইনি যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ১৯৯৪ সালের অনেক ওষুধ এখন আর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় না বা অকার্যকর হয়ে গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করার কথা। সেখানে আগের সরকারের তালিকা বাতিল করে সরাসরি তিন দশকের পুরোনো নীতিতে ফিরে যাওয়াকে অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা।
বর্তমানে দেশে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই নিজস্ব পকেট থেকে মেটাতে হয়, যা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বড় একটি বোঝা।
যেখানে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল লক্ষ্য চিকিৎসা ব্যয় কমানো, সেখানে নতুন তালিকা বাতিলের এই পদক্ষেপে জনস্বার্থের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জোরালো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :