ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

এপস্টিন ফাইলস: কারা কারা আছেন বিতর্কিত নথিতে?

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

এপস্টিন ফাইলস: কারা কারা আছেন বিতর্কিত নথিতে?

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত তদন্ত থেকে সম্প্রতি আরও বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার। ‘এপস্টিন ফাইলস’ নামে পরিচিত এসব নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ও ধনকুবের ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ নথিপ্যাকেটে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও। এতে ইলন মাস্ক, বিল গেটস, রিচার্ড ব্র্যানসনসহ বহু পরিচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকা প্রমাণিত নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই নথি প্রকাশ করা হয় ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায়, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের নভেম্বরে আইনে স্বাক্ষর করেন। যদিও ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার দাবি, এখনো সব নথি পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

নিচে সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো-:


ইলন মাস্ক: নথিতে এপস্টিনের সঙ্গে ইলন মাস্কের ই-মেইল যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। এসব মেইলে ভ্রমণ ও পার্টি–সংক্রান্ত আলাপ দেখা যায়। মাস্ক দাবি করেছেন, তিনি কখনো এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

প্রতিক্রিয়া: মাস্ক বলেন, এসব ই-মেইল তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যবহার হতে পারে, তবে তার মূল উদ্বেগ এপস্টিনের সঙ্গে প্রকৃত অপরাধে জড়িতদের বিচার।


বিল গেটস: ২০১৩ সালের দুটি ই-মেইলের খসড়া নথিতে রয়েছে, যা এপস্টিন লিখেছেন বলে মনে করা হয়। সেখানে বিল গেটসকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগের ইঙ্গিত আছে।

প্রতিক্রিয়া: গেটসের মুখপাত্র এসব দাবি “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।


ডোনাল্ড ট্রাম্প: নথিতে ট্রাম্পের নাম শতাধিকবার এসেছে, যার বেশিরভাগই যাচাইহীন অভিযোগ ও ফোনকলভিত্তিক তথ্য।

প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্প বারবার বলেছেন, বহু বছর আগে তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং কোনো অপরাধে জড়িত নন।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু (অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর): নথিতে কিছু বিতর্কিত ছবি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যদিও ছবিগুলোর সময় ও প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।

প্রতিক্রিয়া: তিনি সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রিচার্ড ব্র্যানসন: এপস্টিনের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ ও ই-মেইলের তথ্য নথিতে রয়েছে।

প্রতিক্রিয়া: ভার্জিন গ্রুপ জানায়, গুরুতর অভিযোগ জানার পর তারা এপস্টিনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে।

সারা ফার্গুসন: একাধিক ই-মেইলে তার নাম এসেছে, তবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নেই।
প্রতিক্রিয়া: বিবিসি তার মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে।

লর্ড ম্যান্ডেলসন: নথি অনুযায়ী, এপস্টিন–সংযুক্ত কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া: তিনি লর্ডস সভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্টিভ ব্যানন: এপস্টিনের সঙ্গে বিপুল বার্তা বিনিময়ের তথ্য রয়েছে, যেখানে ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের কৌশল নিয়েও আলোচনা দেখা যায়।
প্রতিক্রিয়া: কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।

আরও যাদের নাম এসেছে: এ ছাড়া নথিতে নাম রয়েছে, মিরোস্লাভ লাইচাক, হাওয়ার্ড লুটনিক, ল্যারি সামার্স, স্টিভ টিশ, ব্রেট র্যাটনার, পিটার আত্তিয়া, কেসি ওয়াসারম্যান, সের্গেই ব্রিন ও সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নথিতে নাম থাকা সত্ত্বেও কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!