যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ আপাত হুমকি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক মারাত্মক ভুল করছেন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। কানেকটিকাটের এই প্রভাবশালী সিনেটর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন অবিবেচকমূলক আচরণই স্পষ্ট করে দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেন এখন ওয়াশিংটনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির কঠোর সমালোচনা করেন ক্রিস মারফি। তিনি লেখেন, ‘তারা (ট্রাম্প প্রশাসন) ক্রমাগত চরম আতঙ্কের মধ্যে থেকে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন।’
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত এবং সামগ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার এই ইস্যুতে ট্রাম্প কেবল বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদেরই নয়, বরং তার নিজের দল রিপাবলিকানেরও শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে তীব্র ও নজিরবিহীন সমালোচনার শিকার হচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে যেখানে কূটনীতি ও আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছিল, সেখানে ওমানের মতো একটি শান্তিপ্রিয় ও মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন পরিস্থিতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে। সমালোচকদের স্পষ্ট মত, ট্রাম্পের এই দূরদর্শিতাহীন, খামখেয়ালি ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং রক্তক্ষয়ী করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার খসড়া সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ওমান ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। এমন সময়ে ওমানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :