ইরানের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। দীর্ঘ ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে নতুন করে এই হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় তিন শতাংশ (৩%) বেড়ে গেছে।
জ্বালানি বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেলের বাজারের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক শূন্য ছয় (৯৭.০৬) ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড অয়েল ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’-এর দামও সমানতালে বেড়েছে। ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ২৪ (৯১.২৪) ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এভাবে বজায় থাকলে তেলের দাম দ্রুতই ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।
বন্দর আব্বাসে এই আকস্মিক হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের এই অভিযানটি ছিল সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’। সেন্টকম দাবি করেছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’র আশপাশে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করার কারণে ইরানের চারটি (৪) ড্রোনও আকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত টানা ৪০ দিন চলার পর, গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছিল। বিগত এক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনাও অব্যাহত রেখেছিল।
কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং শান্তি চুক্তির বিভিন্ন কঠোর শর্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা থেকে থেকেই বাড়ছিল। অবশেষে সেই শান্তি আলোচনার টেবিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে নতুন করে এই হামলার ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিকে আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।


আপনার মতামত লিখুন :