ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

দুর্নীতি মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির ১৭ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

দুর্নীতি মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির ১৭ বছরের কারাদণ্ড

তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ আদালত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিচারক শাহরুক আরজুমান্দ এই রায় ঘোষণা করেন। খবর এনডিটিভির।

২০২২ সালের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তোশাখানা-২ মামলাটি ২০২১ সালে সৌদি সরকারের কাছ থেকে এই দম্পতি যে রাষ্ট্রীয় উপহার পেয়েছিলেন, তাতে কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় ঘোষণা করেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে সেখানেই বন্দী।

ইমরান খান এবং বুশরা বিবিকে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা (বিশ্বাসভঙ্গ) অনুযায়ী ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও করেছে।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত ইমরান আহমেদ খান নিয়াজির বার্ধক্য এবং বুশরা ইমরান খান একজন নারী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে। এই দুটি কারণ বিবেচনা করেই কম সাজা প্রদানের মাধ্যমে একটি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে।’

রায়ে আরও যোগ করা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার সুবিধা (কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে হাজতবাসের সময়কাল বিবেচনা করা) দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। বিচার চলাকালীন মোট ২১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। রায় ঘোষণার সময় ইমরান খান এবং বুশরা বিবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় রেকর্ড করা জবানবন্দিতে ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এই মামলা ‘বিদ্বেষপূর্ণ, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, দামি ঘড়ি, হীরা এবং সোনার অলঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী তোশাখানায় (রাষ্ট্রীয় উপহার ভাণ্ডার) জমা না দিয়েই এই দম্পতি বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি জিও নিউজকে বলেছেন, উপহারগুলো তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়নি, যা করা তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আইনি কার্যধারায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, অলঙ্কার সেটের প্রকৃত মূল্য ছিল ৭০ মিলিয়ন রুপি; অথচ এর মূল্যায়ন করা হয়েছিল মাত্র ৫.৮-৫.৯ মিলিয়ন রুপি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বুশরা বিবি এবং ইমরান খান পানির দরে সেই সেটটি কেনার চেষ্টা করেছিলেন।’

তোশাখানা হলো ক্যাবিনেট ডিভিশনের অধীনে একটি বিভাগ, যেখানে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে শাসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাওয়া উপহার জমা রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একবার জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই উপহারগুলো পুনরায় কেনা সম্ভব।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বুশরা বিবিকে এই মামলায় জামিন দেয় এবং এক মাস পর ইমরান খানকেও একই মামলায় জামিন দেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে, আদিয়ালা কারাগারে বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যেখানে ইমরান ও তার স্ত্রী আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের শুরুর দিকে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকেই বন্দী ছিলেন। উভয় দণ্ডিত ব্যক্তি এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে একাধিক মামলায় কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তার সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২ ডিসেম্বর, যখন তার বোন উজমা খানকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ইমরান খান ‘সুস্থ’ আছেন।

গত সপ্তাহে, নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস কারাগারে ইমরান খানের ‘অমানবিক ও মর্যাদাহানীকর আটকের অবস্থার’ প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখতে পাকিস্তান সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান খানের নির্জন কারাবাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। এটি কেবল একটি বেআইনি ব্যবস্থাই নয়, দীর্ঘায়িত বিচ্ছিন্নতা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।’

প্রতিবেদন অনুসারে, ইমরান খানকে বাইরের কোনো কার্যক্রম বা অন্য বন্দীদের সঙ্গে মেলামেশার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং তিনি জামাতে নামাজেও অংশ নিতে পারছেন না। আইনজীবী, পরিবারের সদস্য এবং আদালতের অনুমতিপ্রাপ্ত অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাতেও প্রায়ই বাধা দেওয়া হচ্ছে বা সময়ের আগেই শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।

ইমরান খান ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। এই সাজার ফলে তাঁর কারাবাসের মেয়াদ আরও দীর্ঘ হলো এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হলো।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!