ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
সংস্কারপন্থী ও রক্ষণশীলদের মুখোমুখি লড়াই

থাইল্যান্ডে আগাম নির্বাচন

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

থাইল্যান্ডে আগাম নির্বাচন

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আগাম জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ভোট গণনা চলছে। একের পর এক জোট সরকার ভেঙে পড়ায় গত কয়েক বছরে দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যার ফলে তিন বছরে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হন। এই প্রেক্ষাপটেই আগাম নির্বাচনে ভোট দিতে গেছেন দেশটির নাগরিকরা। স্থানীয় সময় রাতের মধ্যেই নির্বাচনের ফলের স্পষ্ট চিত্র উঠে আসতে পারে।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি ও ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। নির্বাচন-পূর্ব জরিপে দুই পক্ষের ব্যবধান খুব বেশি না থাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো দলই এককভাবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে নেই।

এর আগে তরুণ সংস্কারপন্থীরা নির্বাচনে জয়ী হলেও সামরিক-নিযুক্ত সিনেট তাদের সরকার গঠন করতে দেয়নি। পরবর্তীতে সাংবিধানিক আদালতের আদেশে দলটি বিলুপ্ত করা হয়। থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নির্বাচিত সরকারকে ঠেকাতে আদালত ও অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ নতুন কোনো ঘটনা নয়।

প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চার্নভিরাকুল তার ভুমজাইথাই পার্টিকে শক্তিশালী রক্ষণশীল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছেন। সীমান্ত উত্তেজনা ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুকে সামনে এনে তিনি রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অবস্থান রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেকে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছে সিনাওয়াত্রা পরিবারের নেতৃত্বাধীন পিউ থাই পার্টি। একসময় ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়া এই দলটি এবারও জনমুখী নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আগের সরকারের সময় সীমান্ত সংকট ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কারাবরণের প্রভাব দলটির ওপর পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় থাইল্যান্ডের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। অনেক ভোটারই অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠাকে এবারের নির্বাচনের প্রধান প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন।

পিপলস পার্টি বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে গেছে। বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেনাবাহিনীর প্রভাব কমানো, প্রশাসনিক কাঠামো সহজ করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো বিষয় তাদের ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কেবল নির্বাচনে জয় পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হয় না—এমন অভিজ্ঞতা আগেও একাধিকবার হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি পিপলস পার্টি আগের চেয়ে বেশি আসন পায়, তবে তাদের সরকার গঠন ঠেকানো কঠিন হতে পারে। তবে রক্ষণশীল ও রাজতন্ত্রপন্থী মহলে তাদের সংস্কারমূলক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।

এই নির্বাচনের পাশাপাশি ২০১৭ সালের সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক নাগরিকের মতে, এই সংবিধান অনির্বাচিত শক্তিকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সীমিত করে রেখেছে।

অনেক তরুণ ভোটারই পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, দেশকে এগিয়ে নিতে পুরোনো ধারা ভাঙা জরুরি। ফলে এবারের নির্বাচন থাইল্যান্ডের জন্য এক সন্ধিক্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে ভোটারদের সামনে প্রশ্ন একটাই, পরিবর্তন নাকি আগের ধারায় স্থিতাবস্থা।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!