সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাবেক প্রেমিকা ও সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল মার্কিন কংগ্রেসের কমিটির জেরার মুখে নীরবতা পালন করেছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে তাঁকে হাজির করা হলেও এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও মানব পাচার সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেননি তিনি।
সংবিধানের আশ্রয় নিলেন ম্যাক্সওয়েল: জেরার সময় ম্যাক্সওয়েল মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর (Fifth Amendment) আশ্রয় নেন। এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে যায় এমন তথ্য বা দোষ স্বীকার করতে বাধ্য নন। কমিটির সদস্যরা বারবার এপস্টাইনের অন্ধকার জগতের তথ্য জানতে চাইলেও তিনি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে এই সাংবিধানিক অধিকারের দোহাই দিয়ে নীরব থাকেন।
গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে যৌনসংক্রান্ত মানব পাচারে যুক্ত থাকার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি এপস্টাইন মামলা সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই নথিতে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও তারকার নাম উঠে এসেছে, যাঁদের সঙ্গে এপস্টাইনের দহরম-মহরম ছিল।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ম্যাক্সওয়েল কেবল এপস্টাইনের প্রেমিকা ছিলেন না, বরং তিনি নাবালিকা মেয়েদের সংগ্রহ করে এপস্টাইনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কারিগর বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করতেন। কংগ্রেসের এই জেরার উদ্দেশ্য ছিল সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য বের করে আনা।


আপনার মতামত লিখুন :