যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী। স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে আলোচনার এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘কয়েক সপ্তাহব্যাপী’ সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর ছড়িয়েছে।
মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো বিশ্বনেতার সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যদি খামেনেই আগামীকাল দেখা করতে চান, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মানে এই নয় যে ট্রাম্প তাঁর মতের সঙ্গে একমত, বরং তিনি মনে করেন সরাসরি আলাপচারিতাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।” রুবিওর মতে, বৈঠক করা মানেই কোনো ‘ছাড় দেওয়া’ নয়, বরং এটি একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।
কূটনীতির প্রস্তাবের সমান্তরালে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রুবিও সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি মনে করেন, পারমাণবিক শক্তিধর ইরান বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদী হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে, যা ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই শুরু হতে পারে।
আশ্চর্যজনকভাবে, একই দিনে ফোর্ট ব্র্যাগ-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ হবে ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’। ফলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একদিকে সমঝোতার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে শাসন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও সামরিক হুমকি ইরানকে এক কঠিন দ্বিধার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :