ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে আসতে তেহরানকে মাত্র ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে তাঁর নবগঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ এর উদ্বোধনী সভায় তিনি এই চরম সময়সীমা ঘোষণা করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইরানকে একটি ‘অর্থবহ’ চুক্তিতে আসতে হবে। অন্যথায় ‘অত্যন্ত খারাপ কিছু’ ঘটবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “আপনারা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই ফলাফল দেখতে পাবেন। আমরা হয়তো আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব (সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত)।”
ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, যদি ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সকল সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরও বলেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আক্রান্ত হলে প্রতিটি আঘাতের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে এবং এর দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।”
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির কারখানা এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে সীমিত বিমান হামলা চালানো হতে পারে।
যদি সীমিত হামলায় ইরান নতি স্বীকার না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক আকারে সামরিক অভিযান চালাবে। যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরকারের পতন ঘটানো।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় বিমান ও নৌবাহিনীর সমাবেশ ঘটিয়েছে পেন্টাগন। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :