ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জর্ডানের `মুয়াফফাক সালতি` সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বাভাবিক ও বিশাল সামরিক সমাবেশের প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো বড় অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ধারণ করা উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে: ৬০টির বেশি যুদ্ধবিমান: ওই ঘাঁটিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক `এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট` অন্যতম।
গত রবিবার থেকে অন্তত ৬৮টি কার্গো বিমান এই ঘাঁটিতে ভারী সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে অবতরণ করেছে। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ঘাঁটিতে নতুন ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
এই রণসজ্জার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতে তিনি দেশটিতে ‘সীমিত সামরিক হামলার’ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানের কৌশলগত অবস্থানে এই বিশাল সমাবেশ ইরানের জন্য সরাসরি এক কঠোর সতর্কবার্তা।
জর্ডান কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ বললেও, কূটনৈতিক মহল একে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে। কূটনীতির পথ বন্ধ হয়ে গেলে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে সংঘাত, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে। বিশ্বনেতারা এখন নিবিড়ভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।


আপনার মতামত লিখুন :