মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ওমানের মধ্যস্থতায় এটি তাদের তৃতীয় দফার বৈঠক। তবে আলোচনার টেবিল যখন প্রস্তুত, ঠিক তখনই ইরানের ১২টি তেলবাহী জাহাজ ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
জেনেভার এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে সবথেকে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তেহরানও।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি কূটনীতিতে বিশ্বাসী, তবে ইরানকে বশে আনতে সীমিত পরিসরে হামলার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। আট মাস আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর কেন আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় তেহরান যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের সরাসরি বলেছেন, “সম্মানজনক কূটনীতিতে আমরা রাজি, কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসে আঘাত করতে চাইলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী শক্তিশালী জবাব দেবে।” তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এখনও সমঝোতার আশা ছাড়েননি। তিনি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির নির্দেশনায় বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ চান।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করেছেন যে, ইরানের কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরমাণু উপাদান মজুত রয়েছে যা যেকোনো সময় অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :