ইসলামী বিপ্লবের মহানায়ক ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে যে, আজ রোববার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কর্মস্থলে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি শহীদ হন। এই হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতিও শাহাদাতবরণ করেছেন। এর আগে শনিবার সকালে অপর এক হামলায় তাঁর এক পুত্রবধূ নিহত হন।
ইরানের মন্ত্রিসভা এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধী সরকার এবং কুখ্যাত ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেওয়া ইমাম খামেনেয়ী শহীদ হয়েছেন। তাঁর অনুকরণীয় সাহস এবং দৃঢ় বিশ্বাস ইসলামের ইতিহাসে অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।"
পশ্চিমা ও ইহুদিবাদী গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী গোপন ও নিরাপদ বাংকারে অবস্থান করেন। কিন্তু আজ নিজ কর্মস্থলে তাঁর শাহাদাতবরণ সেই দাবিগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে এবং তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জনগণের মাঝেই ছিলেন বলে ইরান সরকার দাবি করেছে।
নেতার শাহাদাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তেহরানের ঐতিহাসিক ইনকিলাব স্কয়ারে লাখো শোকার্ত মানুষ সমবেত হচ্ছেন। গোটা জাতি আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানের মন্ত্রিসভা দেশটিতে ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর উত্তরসূরি কে হবেন এবং এই হামলার প্রেক্ষিতে ইরান ও তাঁর মিত্রদের (অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স) পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে সারাবিশ্ব এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :