ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত বরণের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলা, অন্যদিকে ইরানের এলিট রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বিধ্বংসী পাল্টা জবাবে কাঁপছে পুরো অঞ্চল।
বিবিসি ভেরিফাই-এর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানে খামেনির প্রধান কার্যালয় ‘লিডারশিপ হাউস’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতেই হামলা চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এখন পর্যন্ত ইরানে ২০১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ ইরানে একটি মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১০৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তেল আবিবে একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে, যেখানে অন্তত ১ জন নারী নিহত এবং ১২০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের হামলা এখন আর শুধু ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ নেই। আইআরজিসি সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে, মার্কিন ৫ম নৌবহর- বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী নৌঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর দুবাই ইন্টারন্যাশনালে হামলার পর ৪ জন আহত হয়েছেন। দোহা ও কুয়েতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।
পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন শুধু সতর্কতামূলক সাইরেনের শব্দ। বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :