ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের প্রায় সবাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, গত শনিবার সকালে ‘শাজারেহ তাইয়েবা প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়’ লক্ষ্য করে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। মুহূর্তেই পুরো স্কুল ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১৮০টি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৯৬ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে লড়ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই ধরনের মারণাস্ত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালেও ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ধ্বংস হওয়া স্কুলের ছবি প্রকাশ করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি লিখেছেন, “একটি পুরো স্কুল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নিষ্পাপ শিশুদের মেরে ফেলা হয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের জবাব দেওয়া হবেই।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘাই এই ঘটনাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিলো। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।


আপনার মতামত লিখুন :