ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

১২ ফেব্রুয়ারি: আগামীর বাংলাদেশ কার হাতে?

ওমর ফারুক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

১২ ফেব্রুয়ারি: আগামীর বাংলাদেশ কার হাতে?

ওমর ফারুক

বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতি সবসময়ই উৎসব আর উৎকণ্ঠার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঠিক সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়; এটি একটি জাতির মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির পরীক্ষা। একদিকে ৩০০ আসনের সংসদীয় নির্বাচন, অন্যদিকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক গণভোট। এই দ্বৈত লড়াইয়ের ময়দান যখন প্রস্তুত, তখন সবার মনেই এক প্রশ্ন কে হাসবে শেষ হাসি? আর কাদের জন্য অপেক্ষা করছে পতনের করুণ সুর?

বর্তমান মাঠের পরিস্থিতি ও জনমত বিশ্লেষণ করলে পাল্লা এককভাবে বিএনপির দিকেই ঝুঁকে আছে বলে মনে হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও নিপীড়ন শেষে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন তাদের জন্য একটি ‘উইনিং মোমেন্টাম’ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিএনপিকে ‘ফেভারিট’ হিসেবে দেখছে।

বিএনপির জয়ের সম্ভাবনার পেছনে তিনটি মূল শক্তি কাজ করছে: ১. পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা: দেড় যুগেরও বেশি সময় এক দলের শাসনের পর ভোটারদের মধ্যে নতুন মুখ দেখার একধরনের মনস্তাত্ত্বিক তাড়না রয়েছে। ২. সংস্কারের অঙ্গীকার: বিএনপি এবার কেবল ক্ষমতার কথা বলছে না, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা দিচ্ছে, যা শিক্ষিত ও তরুণ ভোটারদের টানছে। ৩. বিপক্ষ শিবিরের অনুপস্থিতি: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো বর্তমানে প্রায় বিধ্বস্ত। মাঠে তাদের পোলিং এজেন্ট বা দৃশ্যমান প্রচারণার অভাব বিএনপির জয়ের পথকে মসৃণ করে দিয়েছে।

কেন ধসে পড়ল ‘নৌকা’: বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় অজেয় মনে হওয়া আওয়ামী লীগের এই সংকটের পেছনে বড় কিছু ভুলের দায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটারদের দীর্ঘকাল ‘ডিপাইভ’ বা ভোটাধিকার বঞ্চিত করা দলটির সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল ছিল। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের ক্ষোভ এবার ব্যালটে ফুটে উঠতে পারে। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনাটি দলটির জনপ্রিয়তার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। বর্তমানে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং আইনি নিষেধাজ্ঞা দলটিকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।

ফ্যাক্টর যখন তরুণ ও জামায়াত: এবার প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের মধ্যে বড় একটি অংশ তরুণ বা ‘জেন-জি’। যারা প্রথমবারের মতো একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে ভোট দেবেন। এই তরুণরা প্রথাগত রাজনীতির চেয়ে সুশাসন ও দুর্নীতির বিচারের দিকে বেশি মনোযোগী।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র ভূমিকাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে একটি গোপন বা প্রকাশ্য সমঝোতা হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে, যা অনেক জায়গায় ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও উপকূলীয় এলাকায় জামায়াতের শক্তিশালী ভোটব্যাংক বিএনপির একক আধিপত্যের পথে বড় বাধা হতে পারে।


১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল বিজয়ী নির্ধারণের নয়, বরং এটি ৫ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতার একটি সনদ। তারেক রহমান একক সরকার গঠনের প্রত্যাশা করলেও, একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি জরুরি। জয় যারই হোক, চ্যালেঞ্জটা হবে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনীতিকে সচল রাখা।

জনগণ এখন সেই ক্ষণের অপেক্ষায়, যখন পোলিং এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং বেরিয়ে আসবে এক নতুন অধ্যায়ের নাম।


ওমর ফারুক, গণমাধ্যমকর্মী

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!