রাজনীতিতে ত্যাগের মহিমা যে বৃথা যায় না, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের স্বার্থে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া কুমিল্লার এই প্রবীণ নেতা এখন দেশের নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শক্তিশালী সদস্য। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন সরকারে তিনি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
১৯৫৮ সালের ২৩ জানুয়ারি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পরানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা হাজি ইয়াছিন বিগত ৩৪ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিলুপ্ত হওয়া কুমিল্লা-৯ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও রাজপথে সবসময় সক্রিয় ছিলেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সময় সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।
২০২৬-এর নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ মুহূর্তে দলের ঐক্য রক্ষায় এবং তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। শুধু তাই নয়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সব সংসদীয় আসনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে প্রার্থীদের জয়ী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

রাজনীতির বাইরে হাজি ইয়াছিন একজন সফল শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর জীবনকাহিনি হার না মানা লড়াইয়ের এক উদাহরণ: নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও সেখানে পাটের তৈরি জুতার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখে দেশে ফিরে আসেন।
বর্তমানে তিনি দেশের একজন অন্যতম সফল রপ্তানিকারক ও শিল্পপতি। তিনি ১৩ বার সিআইপি মর্যাদা লাভ করেছেন এবং ৪ বার জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ করদাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
হাজি ইয়াছিনের মন্ত্রী হওয়ার খবরে কুমিল্লাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। শপথ শেষে প্রতিক্রিয়ায় হাজি ইয়াছিন বলেন, “মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে আস্থা আমার ওপর রেখেছেন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমি তার প্রতিদান দিতে চাই। আমি দেশের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”


আপনার মতামত লিখুন :