আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর তাঁর দল কোনো ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ বা অন্য দলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করবে না।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বিএনপি এককভাবে জয়লাভের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দলের উপদেষ্টাদের মতে, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। উল্লেখ্য, বিএনপি এবার ২৯২টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচনের পর একটি ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারেক রহমান সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “আমি যদি আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়েই সরকার গঠন করি, তবে বিরোধী দলে কে থাকবে? সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি ‘গঠনমূলক বিরোধী দল’ হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ভূমিকা রাখবে।
দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।”
ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করে যারা আমাদের দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে, আমরা তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিশেষ একটি দেশের দিকে হেলে থাকবে না; বরং এটি হবে জনকল্যাণমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি’ এবং প্রধানমন্ত্রী পদের ‘প্রধান দাবিদার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে গত ৮ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর থেকেই তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :