ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
এপস্টেইন ফাইলস

ক্ষমতার আড়ালে এক অন্ধকার জগতের নথিনামা

ওমর ফারুক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

ক্ষমতার আড়ালে এক অন্ধকার জগতের নথিনামা

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব রাজনীতি ও বিনোদন জগতের রথী-মহারথীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে একটি নাম জেফ্রি এপস্টেইন। কোটিপতি এই মার্কিন অর্থলগ্নিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচারের অভিযোগগুলো কেবল অপরাধ জগতের গল্প নয়, বরং এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম উদাহরণ। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে উন্মোচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ সেই অন্ধকার জগতের পর্দা আরও একবার সরিয়ে দিয়েছে।

কী এই এপস্টেইন ফাইলস: জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে করা এক মানহানি মামলার অংশ হিসেবে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথি সম্প্রতি জনসমক্ষে আনা হয়েছে। মূলত ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামক এক ভুক্তভোগীর করা মামলার প্রেক্ষিতে এই নথিগুলো সীলগালা করা ছিল। এই ফাইলগুলোতে নাম উঠে এসেছে বিশ্বের প্রভাবশালী সব ব্যক্তি- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে নামকরা বিজ্ঞানী ও হলিউড তারকাদের।

যৌন নেটওয়ার্কের নীল নকশা: নথিগুলোতে উঠে এসেছে কীভাবে এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-কে এক নারকীয় আস্তানায় পরিণত করেছিলেন। অল্পবয়সী মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে আসা হতো এবং উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী বন্ধুদের খুশি করতে তাদের ব্যবহার করা হতো। এই কাজে তাকে সরাসরি সহায়তা করতেন তার বান্ধবী গিজলেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি বর্তমানে কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

কেন এটি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে: এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের মূল কারণ এতে থাকা নামগুলো। যদিও নথিতে নাম থাকা মানেই তারা অপরাধী নন, তবে এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডিত অপরাধীর সাথে এই ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা অনেক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং বিল গেটসের মতো ব্যক্তিদের নাম আসায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রিন্স অ্যান্ড্রু এই কেলেঙ্কারির কারণে তার রাজকীয় উপাধি ও সম্মান হারিয়েছেন।

বিচারের দাবি ও ভবিষ্যৎ: ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনের রহস্যজনক আত্মহত্যার পর ভুক্তভোগীদের মনে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল যে, তারা হয়তো আর বিচার পাবেন না। কিন্তু এই ফাইলগুলো প্রকাশের ফলে নতুন করে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে থাকলেই যে বিচারের ঊর্ধ্বে থাকা যায় না, এপস্টেইন ফাইলস সেই বার্তাই দিচ্ছে।

এপস্টেইন ফাইলস কেবল একটি পাচার চক্রের নথি নয়; এটি আমাদের সমাজের ব্যবস্থার এক নগ্ন চিত্র। যেখানে বিত্ত আর প্রভাবের কাছে অনেক সময় আইনি ব্যবস্থা অসহায় হয়ে পড়ে। এই কেলেঙ্কারি প্রমাণ করে যে, অন্ধকারের সেই গোপন অধ্যায়গুলো একদিন না একদিন আলোর মুখ দেখবেই। পৃথিবী এখন অপেক্ষা করছে এই প্রভাবশালী তালিকায় থাকা আর কার কার মুখোশ উন্মোচিত হয়।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!