ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: সংযমের মাসে অস্বস্তির বাস্তবতা

ওমর ফারুক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: সংযমের মাসে অস্বস্তির বাস্তবতা

রমজান সংযম, সহমর্মিতা আর আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু প্রতি বছর এই পবিত্র সময় এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন অদৃশ্য এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যে মাসে মানুষের ভোগান্তি কমার কথা, সেই মাসেই বাজারে দেখা যায় উল্টো চিত্র দাম বাড়ে, কষ্ট বাড়ে, আর সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবন হয়ে ওঠে আরও কঠিন।

রমজানে চাহিদা কিছুটা বাড়ে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলেও “চাহিদা বাড়ছে” এই অজুহাতে দাম বাড়ানো যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। সীমিত আয়ে চলা মানুষদের জন্য প্রতিদিনের বাজার করা হয়ে যায় দুশ্চিন্তার কারণ। ইফতারের টেবিলে সামান্য স্বস্তি আনার জন্যও অনেককে হিসাব করে চলতে হয়। ফলে রমজানের আধ্যাত্মিক আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যায় অর্থনৈতিক চাপের কাছে।

এখানে শুধু ব্যবসায়ীদের দায় দিলেই হবে না। বাজার তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব এবং কার্যকর শাস্তির অভাব সব মিলিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতি বছর একই সমস্যা দেখা দিলেও টেকসই সমাধানের উদ্যোগ খুব কমই চোখে পড়ে।

প্রথমত, বাজারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। মজুতদারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। তৃতীয়ত, ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

রমজান কেবল খাবারের আয়োজনের মাস নয়, এটি মানবিকতার মাস। এই মাসে যদি মানুষকে কষ্ট দিয়ে মুনাফা অর্জন করা হয়, তবে তা শুধু অন্যায় নয়, নৈতিকতাবিরোধীও।
প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ সরকার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ সবাই মিলে যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবেই রমজান হতে পারে সত্যিকার অর্থে শান্তি ও সংযমের মাস।

ওমর ফারুক, গণমাধ্যমকর্মী

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!