আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের সাধারণ একটি দিন হলেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন শেষে নাগরিকরা কাল শুধু তাদের জনপ্রতিনিধিই বেছে নেবেন না, বরং ‘জুলাই সনদ’ গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো কেমন হবে।
দ্বিমুখী লড়াই ও নতুন সমীকরণ: এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিগত কয়েক দশকের তুলনায় একদমই ভিন্ন। বড় একটি রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতিতে লড়াইটা মূলত দ্বিমুখী হতে যাচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত জোট। নির্বাচনী মাঠে এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ জনমনে কৌতূহল ও উদ্দীপনা উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে শুধু গদির পরিবর্তন নয়, মানুষের প্রধান দাবি এখন সুশাসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান।
গণভোট: সংস্কারের আইনি স্বীকৃতি: আগামীকালকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ‘গণভোট’। সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি ভোটাররা ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের মতো বৈপ্লবিক প্রস্তাবগুলো এখন জনগণের সম্মতির অপেক্ষায়। যদি ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেন, তবে সেটি হবে বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের এক বড় মাইলফলক।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তরুণ ভোটাররা, বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, তাদের ভূমিকা হবে নির্ণায়ক। তারা এমন এক বাংলাদেশ চায় যেখানে ভোটাধিকার হরণ করা হবে না এবং ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। তাই কালকের ভোটকেন্দ্রগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি হবে আগামীর গণতন্ত্রের ভিত্তি।
প্রশাসনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা: শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছে। তবে কেবল সামরিক পাহারা নয়, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দরকার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রতিটি ভোটের সঠিক গণনা।
ভোট দেওয়া কেবল নাগরিক অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্বও বটে। কালকের দিনটি শুধু ক্ষমতার হাতবদলের নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূচনা হোক। ব্যালটের কালি দিয়ে মানুষ যেন কাল এমন এক ছবি আঁকে, যেখানে কোনো স্বৈরাচার আর কখনও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
ভোরের সূর্য যখন উঠবে, তখন শুরু হবে এক নতুন লড়াই ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। শুভকামনা বাংলাদেশ।
ওমর ফারুক, গণমাধ্যমকর্মী


আপনার মতামত লিখুন :