মধ্যপ্রাচ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চতুর্থ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, সামরিকভাবে বিধ্বস্ত ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমঝোতার সময় এখন আর নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “তাদের (ইরান) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী এবং নেতৃত্ব সব শেষ হয়ে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওরা কথা বলতে চায়। আমি বলেছি অনেক দেরি হয়ে গেছে!”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্পের এই বিজয়োল্লাসকে কেবল ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের এই দাবিকে মুহূর্তেই উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজনী এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামেনি পরিবারের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
এর আগেও ট্রাম্প একবার ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব আসার দাবি করেছিলেন, যা তখনো তেহরান অস্বীকার করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে ট্রাম্পের ‘দেরি হয়ে গেছে’ হুঙ্কার এবং অন্যদিকে লারিজনীর আপসহীন অবস্থান সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন :