যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের কড়া নজরদারি এড়িয়ে অন্তত চারটি বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। মেরিন ট্রাফিক ও বিবিসি ভেরিফাই-এর ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর রাডার ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই জাহাজগুলো কৌশলগত এই জলপথ পাড়ি দিল?
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই জাহাজগুলোর বেশিরভাগই আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ছিল অথবা ইরানের বন্দরের সাথে যুক্ত ছিল:
১. ক্রিস্টিয়ানা: এই জাহাজটি এর আগেই ইরানের বন্দরে নোঙর করেছিল এবং অবরোধ শুরুর পর প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়।
২. রিচ স্টারি: জাহাজটি আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে যাত্রা শুরু করে এটি সোমবার রাতেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
৩. মুরলিকিশান: চীনের লানসান থেকে আসা এই জাহাজটিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে। ট্র্যাকিং অনুযায়ী, এটি বর্তমানে ইরানের কেশম দ্বীপের পূর্ব দিকে অবস্থান করছে।
৪. এলপিস: এই ট্যাংকারটি ইরানের বুশেহর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে মঙ্গলবার সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে। তবে এর গন্তব্য কোথায় তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জাহাজগুলো তাদের অবস্থান গোপন করতে বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। অনেক সময় এ ধরণের জাহাজগুলো তাদের ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ বা লোকেশন ট্র্যাকার বন্ধ করে রাখে, যাকে নৌ-পরিভাষায় ‘ডার্ক সেলিং’ বলা হয়। এতে মার্কিন স্যাটেলাইট বা নৌবাহিনীর পক্ষে মাঝসমুদ্রে এদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গত সোমবার দুপুর থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে ঢোকা ও বের হওয়ার পথে অবরোধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইরানকে ‘টোল’ বা ফি প্রদানকারী যেকোনো জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রথম দিনেই নিষেধাজ্ঞায় থাকা জাহাজগুলো পার হয়ে যাওয়ায় অবরোধের কঠোরতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :