ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চতুর্থ দিনে এসে লাশের মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সবশেষ তথ্যমতে, যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন ভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৭৪২ জনই বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ১৭৬ জন নিষ্পাপ শিশু।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ইরানের ৯টি হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষ করে তেহরানের ‘গান্ধী হাসপাতাল’ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হাসপাতালে হামলার অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে, তারা কোনোভাবেই হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তাদের দাবি, তারা কেবল সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা ও আইআরজিসি-র গোপন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধকবলিত শহরগুলোতে একের পর এক হাসপাতালে হামলা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আহতদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট এবং অপারেশন থিয়েটারগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় মৃত্যুহার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :