ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। বিধ্বস্ত বিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারে খুজেস্তান প্রদেশের কারুন নদী সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন বাহিনীর এক বিশাল ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অপারেশন চলছে। এদিকে ইরান দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালে তারা আরও একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ভূপাতিত এফ-১৫ বিমানের একজন ক্রুকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে নিচ থেকে গুলি চালানো হলে ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রু আহত হন। বর্তমানে নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের সন্ধানে দুটি হেলিকপ্টার ও বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বিবিসি ভেরিফাই টিম খুজেস্তান প্রদেশে কারুন নদীর ওপর মার্কিন হেলিকপ্টারের টহল দেওয়ার একটি ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে আকাশ থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল একটি এ-১০ ওর্থহগ যুদ্ধবিমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানটি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তারা ওই এ-১০ বিমানটিও ভূপাতিত করেছে। যদিও এটি একই বিমান কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের ৭০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেহরান ও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো অবিরাম বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

এত কিছুর পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষায়িত ‘প্যারারেস্কিউ জাম্পার’ ইউনিট (যাদের সুইস আর্মি নাইফ বলা হয়) নিয়োগ করা হয়েছে। এই অভিযানকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন সাবেক কমান্ডারেরা।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!