বিশ্ব রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও সংঘাতময় মুহূর্তটি ঘনিয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চূড়ান্ত হুমকি দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে না এলে আজ রাতেই একটি ‘গোটা সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানকে মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় আগামীকাল বুধবার ভোর ৬টা) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি চাই না এটি (ধ্বংস) ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তা ঘটবে। যদি ইরান চুক্তিতে না আসে, তবে আজ রাতেই এমন একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।”
তবে একই পোস্টে তিনি কিছুটা আশার আলোও দেখিয়েছেন। ইরানের নেতৃত্বে আসা সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “সেখানে এখন ভিন্ন এবং অপেক্ষাকৃত কম উগ্র মানসিকতার ও বুদ্ধিমান মানুষ নেতৃত্বে এসেছে। হয়তো ইতিবাচক কিছুই ঘটবে। কে বলতে পারে!”
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আমরা এটি আজ রাতেই জানতে পারবো। এটি পৃথিবীর দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। অবশেষে গত ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবসান হবে। ঈশ্বর ইরানের জনগণের ভালো করুক!”
ট্রাম্পের দেওয়া এই সময়সীমা বা ডেডলাইন নিয়ে পুরো বিশ্বে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা এবং বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর ৬টার মধ্যে ইরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করলে পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি কেবল মনস্তাত্ত্বিক লড়াই নয়, বরং এক ভয়াবহ বাস্তবতার ইঙ্গিত। যদি সত্যিই কোনো হামলা হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে এক প্রলয়ংকরী প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং বিশ্বনেতারা উত্তেজনা কমানোর শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :