যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কয়েক ঘণ্টার মাথায় কয়েকটি স্থানে সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং কূটনীতিকে সুযোগ দিতে সব পক্ষকে কঠোরভাবে ‘সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি।
শেহবাজ শরিফ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “সংঘাতপূর্ণ এলাকার অল্প কয়েকটি স্থানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অত্যন্ত আন্তরিক ও দৃঢ়ভাবে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সম্মতিসূচক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই সপ্তাহের জন্য সংযম প্রদর্শন করুন এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলুন, যাতে কূটনীতি এই সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে নেতৃত্ব দিতে পারে।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনাকে ‘ইসলামাবাদ টকস’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন যে, এই আলোচনা দীর্ঘ ৪৭ বছরের শত্রুতা ও অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে।
যদিও শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য, তবে ইসরায়েল এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতিকে ভঙ্গুর করে তুলছে। বুধবার সকালেও লেবাননের কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইনের মাত্র এক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় দুই দেশ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি স্থগিত করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :