দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র এক দিন পার হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রলয়ংকরী সংঘাত শুরু হয়েছে। বুধবার লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৮২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, তারা মাত্র ১০ মিনিটে হিজবুল্লাহর ১০০টি লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট ছুড়েছে হিজবুল্লাহ। ফলে শুক্রবার ইসলামাবাদে যে শান্তি আলোচনার কথা ছিল, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েল শর্ত ভঙ্গ করছে না। তাঁর মতে, লেবানন একটি ‘পৃথক সংঘাতের’ বিষয় এবং এটি মূল চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তির অন্তত তিনটি ধারা ইতোমধ্যেই ‘প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত’ হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান আগ্রাসন’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাবে। এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলকে ‘পস্তাতে হবে এমন জবাব’ দেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারের তেলের রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তথ্যের চরম অমিল দেখা দিয়েছে। হোয়াইট হাউস দাবি করছে, প্রণালিটি উন্মুক্ত এবং সেখানে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। তবে আইআরজিসি সরাসরি জাহাজ ব্রোকারদের বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালিটি এখনো বন্ধ এবং অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ধ্বংস করা হবে। বিবিসি ভেরিফাই টিমও একটি জাহাজ ফিরে যাওয়ার তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে।
ইসরায়েলের ভেতরেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। বিরোধী দলগুলো বলছে, তিনি যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের কথা শেষ মুহূর্তে জানতে পেরে চরম অপমানিত হয়েছেন। অন্যদিকে, আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্র:বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :