ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরান ‘চুক্তি লঙ্ঘন’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো লিখিত বার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় একদিনেই ৩০৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান চুক্তির শর্ত মানছে না। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ট্যাংকারগুলো থেকে অবৈধভাবে ‘ফি’ আদায় করছে। ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান খুবই খারাপ কাজ করছে। কেউ কেউ একে অসম্মানজনক বলবেন। আমাদের চুক্তিতে এমন কিছু ছিল না। এই চাঁদাবাজি এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।”
পিতার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি। তবে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর একটি লিখিত বার্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধে ইরানই ‘বিজয়ী জাতি’। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি একটি রহস্যময় ঘোষণা দিয়ে বলেন, “সরকার হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।” এটি কি জাহাজ চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নাকি অন্য কোনো কৌশল, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবানন। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান এবং ইরান দাবি করছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। এই বিভ্রান্তির সুযোগে বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বড় হাসপাতালসহ জনবহুল এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার কাতারে পৌঁছানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, তাঁরা দুজনেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি ‘বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার’ পরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুক্তরাজ্য এই নৌপথ সচল করতে অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
একদিকে বোমা বর্ষণ চললেও অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রাখা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাঁর সরকার লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এ বিষয়ে একটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহু তাঁর অনুরোধে লেবাননে হামলার মাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনবেন। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :