ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবার চরম রূপ নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালানোর পর এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তারা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে ‍‍`আত্মরক্ষামূলক হামলা‍‍` চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও ‍‍`কঠোর‍‍` আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরান অনেক বেশি সময় নিচ্ছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই সর্বশেষ মার্কিন হামলাটি চালানো হয়। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা আগের দিনও তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল।

সম্প্রতি এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগের দফার হামলায় মার্কিন বাহিনী ওই অঞ্চলের বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনাতেও আঘাত হেনেছিল।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হরমুজ প্রণালিকে সব ধরনের জাহাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করার খবর প্রচার করেছে। একই সাথে দাবি করা হয়েছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) ওই জলসীমায় দুটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, যদিও সেন্টকম দাবি করেছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নৌ চলাচল বন্ধ এবং জাহাজে হামলার খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

এই যুদ্ধাংদেহী পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইরান চুক্তি করার সুযোগ হাতছাড়া করায় তাদের প্রধান প্রধান স্থাপনাগুলোতে বোমা ফেলা হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছে। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে আরও গভীর সংকটের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধবিরতিটি এখন কেবল নামেমাত্র রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পথে আসার আহ্বান জানান। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!