ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News
১০০ দিন প্রত্যাশা, নাকি বাস্তবতা?

তারেক রহমান সরকারের প্রথম তিন মাস যা করল, না করল

ওমর ফারুক

প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

তারেক রহমান সরকারের প্রথম তিন মাস যা করল, না করল

তারেক রহমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই সময়কালে দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন সরকার কতটা প্রতিশ্রুতি পূরণ করল? কতটা অর্জন হলো? আর কতটা বাকি? ১০০ দিনের এই সময়কাল কোনো সরকারের জন্যই ছোট নয়। এটি দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারেক রহমান সরকারের ১০০ দিন কেমন কাটল? প্রশ্ন করার অধিকার সব মানুষের আছে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী ইশতেহারে তারেক রহমানের দল প্রত্যাশা তৈরি করেছিল স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন, দুর্নীতি বন্ধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো পূর্ণ হয়নি। তবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন: বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, কর ব্যবস্থায় সংস্কার, কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। কিন্তু এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছাল কি না, তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।

অর্থনীতি। সরকার দাবি করে অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তা প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, তা হলো আসল প্রশ্ন। মূল্যস্ফীতি, খাদ্যের দাম, জ্বালানির দাম-এসব ওপর সাধারণ মানুষের চাপ বাড়ছে। সরকারের নীতি কি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছে, নাকি শুধু বড় কর্পোরেট ও বড় করদাতাদের জন্য? এটি প্রশ্নের উত্তর দরকার।

দুর্নীতি ও ন্যায়বিচার। সরকার দাবি করে দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে দুর্নীতি এখনো বহাল আছে। পুলিশ, প্রশাসন, রাজনীতি-সবখানে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সরকার যদি সত্যিই দুর্নীতি বন্ধ করতে চায়, তবে তা সাধারণ মানুষের চোখে দেখাতে হবে। ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা হতে হবে, না হলে মানুষের আস্থা হারাবে।

কর্মসংস্থান ও দক্ষতা। সরকার দাবি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বেকারত্ব এখনো বাড়ছে। তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ এসব খাতে বাজেটের অংশ যথেষ্ট হতে হবে। নইলে প্রবৃদ্ধি হবে কাগজে, বাস্তবে বেকারত্ব বাড়বে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। সরকার দাবি করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা এখনো যথেষ্ট নয়। শিক্ষকের অভাব, স্কুলের অবকাঠামো, হাসপাতালের পরিষেবা এসব খাতে উন্নয়ন দরকার। সরকার যদি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করে, তবে এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াবে।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র। সরকারের ১০০ দিনে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখা গেছে কি না, তা হলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বিরোধী দলের অধিকার এসব নিশ্চিত হতে হবে। নইলে গণতন্ত্র থাকবে না, স্বৈরশাসন ফিরে আসবে।

১০০ দিনের পর ভবিষ্যৎ। সরকারের ১০০ দিনের পরবর্তী পরিকল্পনা কী? মানুষের আস্থা অর্জন করতে কি করবে? সরকার যদি সত্যিই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে, তবে তা দেখাতে হবে। নইলে মানুষের আস্থা হারাবে, রাজনৈতিক সংকট বাড়বে।

সরকারের ১০০ দিন অর্জন ও চ্যালেঞ্জের মিশেল। কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছানো যায়নি। সরকার যদি সত্যিই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চায়, তবে তা দেখাতে হবে। নইলে ১০০ দিনের পর মানুষের আস্থা হারাবে, রাজনৈতিক সংকট বাড়বে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!