বিধবা নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ থেকে বাঁচতে `অপহরণের নাটক` সাজানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানের বিরুদ্ধে। কুমিল্লার দাউদকান্দির এই নেতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী ওই নারী মামলা দায়ের করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার প্রকৃত সত্য না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টিকে স্রেফ `অপহরণের ঘটনা` বলে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দির বাসিন্দা ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি জটিলতা ও ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বাঁচতেই মূলত জিসান প্রধান `অপহরণের নাটক` সাজিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে জিসান প্রধানসহ চার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

ঘটনার শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর আমির তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, দলীয় এই নেতাকে `অপহরণ` করা হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগ এবং তা থেকে বাঁচতে নাটক সাজানোর বিষয়টি সামনে আসার পর জামায়াত আমিরের সেই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতার এমন নৈতিক স্খলন ও ফৌজদারি অপরাধ ঢাকতে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই খোদ দলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে `অপহরণ` বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে ঘটনা খতিয়ে না দেখে এমন পোস্ট কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেও এমন ঘটনা সাজানো হতে পারে। তবে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ধর্ষণের মতো একটি সংবেদনশীল অপরাধকে আড়াল করতে রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার কিংবা অপহরণের নাটক সাজানোর এই ঘটনাটি এখন কুমিল্লার দাউদকান্দিসহ পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :