যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝেই এক নাটকীয় মোড় বদলের খবর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি বড় ধরনের সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষা।
ইউরোপের স্থানীয় সময় অনুযায়ী চলতি সপ্তাহের শেষেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত প্রত্যয়ের সাথে বলেন যে, এই সমঝোতা দুই দেশকে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই চুক্তি সম্পন্ন হবামাত্রই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত এই শান্তিচুক্তির বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সব মিত্র দেশের সঙ্গে এই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না এমন একটি শতভাগ নিশ্চিত গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা আদায় করা। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সমস্ত সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার মূল উদ্দেশ্যই ছিল এই শান্তিচুক্তিটি সম্পন্ন করা।
এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপে গত রাতে হামলার যে কঠোর নির্দেশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার তা আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
ওভাল অফিসের ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, চুক্তির চূড়ান্ত পয়েন্টগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ বজায় রাখতেই মূলত এই হামলার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে এসেছেন।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ট্রাম্পের নির্দেশে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৮ই এপ্রিল একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা কাগজে-কলমে এখনও চলছে।
তবে ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে’ ট্রাম্পের এমন দাবি এবারই প্রথম নয়, গত মার্চ মাস থেকে তিনি বেশ কয়েকবার এমন দাবি করলেও এবারের পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বেশ গুরুত্বের সাথেই দেখছেন।


আপনার মতামত লিখুন :