ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
আধুনিক জীবনের নীরব শত্রু

ঘুমের অভাব ও অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

ঘুমের অভাব ও অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট—ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া আধুনিক জীবন যেন কল্পনাই করা যায় না। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধাই ধীরে ধীরে মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম এখন একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শরীর ও মন—দুটোর ওপরই।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা অন্য কোনো স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সংকেত পায় না। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (ব্লু লাইট) মেলাটোনিন নামের ঘুমের হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসে না, ঘুমের গভীরতাও কমে যায়। এর পরিণতিতে দেখা দেয় অনিদ্রা, অস্থিরতা ও দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্তি।

বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইন গেম খেলার কারণে অনেকেই নিয়মিত প্রয়োজনীয় ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্মজীবীদের ক্ষেত্রেও অফিসের কাজ, ই-মেইল ও অনলাইন মিটিংয়ের চাপ ঘুমের সময় কেড়ে নিচ্ছে।

ঢাকার এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানান,
“ঘুমের অভাব এখন শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন কম ঘুম হলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও রাগের প্রবণতা বেড়ে যায়।”

চিকিৎসক ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞরা ঘুমের মান উন্নত করতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা জরুরি। সেই সময় হালকা বই পড়া, ধ্যান করা বা শান্ত সঙ্গীত শোনা মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। একই সঙ্গে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব চলতে থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায় এবং কর্মক্ষমতায় ভাটার টান দেখা দেয়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনাই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। সময়মতো ঘুম, সীমিত স্ক্রিনটাইম এবং সচেতন জীবনযাপনই আধুনিক জীবনের এই নীরব শত্রুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!