ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন: অ্যাসাসিনেশন

রাজীব কুমার দাশ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন: অ্যাসাসিনেশন

আমাদের সময়ে এই রকম টোটকা বাক্য-বিলাস নিয়ে চায়ের দোকান কিংবা জনাকীর্ণ স্থানে ইংরেজি জ্ঞানের পণ্ডিত সেজে কেউ কাউকে ভড়কে দিত।

টানটান সিনা নিয়ে আমাদের গ্রামের বার্মা-ফেরত যামিনী কেরানি, অশীতিপর বৃদ্ধ দাদু, যখন বলে বসতেন, “আচ্ছা বলো তো দেখি, তোমরা ইংরেজিতে কেমন চোস্ত?”
প্রাইমারি স্কুল জীবনে আমাদের বাবা-মায়ের সামনে অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত। তখনকার সময়ে খুনখারাবি নিয়ে আমাদের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে।

ধাঁধার মতো করে প্রশ্ন করতেন-
“গাধার পিঠে গাধা দাঁড় করিয়ে রেখেছি,
তারপর সেই গাধার ওপর আমি চড়ে বসেছি।
তারপর সৃষ্টি হয়ে গেছে একটি জাতি।”

ছোট মনে জটিল-কুটিল কোনো চিন্তা ছিল না। দেখে দাদু হেসে বলতেন, “আরে, একদিন তোরা হবি সেই বেকুবের দল মূর্খ, উগ্র, খুনি, জল্লাদ, কোতোয়াল। বুঝবি সেই দিন” ASSASSINATION মানে গুপ্ত হত্যা।

গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রীগুপ্ত। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে (মতান্তরে ২৪০–২৮০ খ্রিষ্টাব্দ) মগধে এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘মহারাজ’ উপাধি ধারণ করেন। তবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

শতভাগ এক না হলেও কাছাকাছি ছিল-গোপনীয় ও গুপ্ত অবস্থান। সম্ভবত এই জনপদে সেই সময় থেকেই সরকারি অফিসের খামের ওপর-নিচে লেখা হয় “গোপনীয়”। কিন্তু কী বা কেমন সেই গোপনীয়তা-তা কোনোদিনই জানতে পারবেন না গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কিংবা তাঁর জনগণ।

এই জনপদের হৃদয়-মানচিত্রের ভাঁজে ভাঁজে লেখা আছে বহুরূপী স্লোগান। সেখানেই লুকিয়ে পড়ে আধুনিক গুপ্ত, ভর্ত্সিত ভার্সন।

গুপ্ত মুখে গুপ্তচর, সাংকেতিক ভাষার নানাবিধ আধুনিক সংস্করণ ঐতিহাসিক দলিলই কি বয়ে নিয়ে চলেছে এই জনপদের রসময় গুপ্তরা? যাদের মুখে মিষ্টি, অন্তরে বিষ গোপনীয় কিংবা গুপ্ত রূপে, আবার কখনো প্রকাশ্য দিবালোকে-বুনিয়াদি খুনের আধুনিক ভার্সন!

লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!