ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

ছাত্রদল বনাম শিবির: আধিপত্যের লড়াইয়ে ফের অশান্ত ক্যাম্পাস

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ছাত্রদল বনাম শিবির: আধিপত্যের লড়াইয়ে ফের অশান্ত ক্যাম্পাস

দীর্ঘ দেড় দশকের নীরবতা ভেঙে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও ছাত্র রাজনীতির পুরোনো অস্থিরতা ফিরে আসছে। তবে এবার লড়াইটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের নয়, বরং লড়াই হচ্ছে ক্ষমতার অংশীদার ও সমমনা হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। গত বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা এই উত্তেজনার পারদকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি গ্রাফিতিতে শিবিরকে ইঙ্গিত করে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা হয়। ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে থেকে গোপনে ক্যাম্পাস ও হল নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, শিবিরের দাবি তারা ছাত্র সংসদের (ডাকসু, চাকসু ইত্যাদি) নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গণতান্ত্রিকভাবেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। এই ‘পরিচয় সংকট’ ও ‘শব্দযুদ্ধ’ থেকেই মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর ক্যাম্পাসগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল শিবিরের। সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতেও তারা নিরঙ্কুশ জয় পায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার গঠনের পর ছাত্রদল এখন ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে।

ছাত্রদলের অভিযোগ: শিবির ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ সেজে হল ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দখল করে রেখেছে।

শিবিরের পাল্টা অভিযোগ: ছাত্রদল এখন পুরোনো ‘গণরুম-গেস্টরুম’ কালচার ফিরিয়ে এনে হল দখল করতে চাইছে, যা সাধারণ ছাত্ররা মেনে নিচ্ছে না।

উত্তজনার মূল কেন্দ্র এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। গত বৃহস্পতিবার শাহবাগের ঘটনার সূত্রপাত ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ‘এআই জেনারেটেড’ ফটোকার্ড। ছাত্রদলের অভিযোগ, এটি শিবিরের প্রোপাগান্ডা। যদিও পরবর্তীতে ফ্যাক্টচেকিংয়ে এটি ভুয়া প্রমাণিত হয়, ততক্ষণে মাঠ পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এখন একে অপরের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলছেন।

ক্যাম্পাসের এই অস্থিরতা গড়িয়েছে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে অভিযোগ করেছেন যে, ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও পেশিশক্তির রাজনীতি এবং গেস্টরুম কালচার চালুর চেষ্টা হচ্ছে। এটি সরাসরি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!