দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বছরজুড়েই লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। চার লেনের প্রশস্ত মহাসড়ক হওয়া সত্ত্বেও পরতে পরতে অব্যবস্থাপনার কারণে এই পথ এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের নাম। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ দায়ী, ফিটনেসবিহীন ও ধীরগতির গাড়ির কারণে দূরপাল্লার দ্রুতগামী যানগুলো গতি হারাচ্ছে। মহাসড়কে অটোরিক্সা ও সিএনজির অবৈধ দৌরাত্ম্য জটকে আরও জটিল করে তোলে। আধুনিক যুগেও সেতুগুলোতে সনাতন বা ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের ফলে টোলপ্লাজাগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন মূল মহাসড়ক দখল করে নিচ্ছে, যা যান চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইনবোর্ড, শিমরাইল ও আদমজী সড়কে অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা যেন নিত্যদিনের দৃশ্য।
বুয়েটের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, "ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবকাঠামোগত ত্রুটি খুব একটা নেই। মূলত বিশৃঙ্খল গাড়ি চালনা, হাটবাজার এবং টোলপ্লাজার অক্ষমতার কারণেই বছরের পর বছর যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।"
তবে প্রতিকূলতার মাঝেও স্বস্তির খবর দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "গত সাত দিন ধরে আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। অতীতের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা হবে অনেকটা স্বস্তিদায়ক। মানুষ আনন্দময় একটি ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে।"
মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সংশয় কাটছে না। মহাসড়কে আটকে থাকা এক ট্রাক চালক আক্ষেপ করে বলেন, "একজনে ডাইনে লয়, আরেকজনে ডাইনে লয়; লইতে লইতে রাস্তা শেষ। পাম্পে গেলেই সিরিয়াল। এই জট ঠেলে সময়মতো পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।"
বিশ্লেষকদের মতে, সায়েদাবাদের মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ অংশ পর্যন্ত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে না পারলে মন্ত্রীর আশ্বাস কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :