অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৪টি অধ্যাদেশ এখন স্থায়ী আইনে পরিণত হলো। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে বিল আকারে উত্থাপনের পর এগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন।
সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রেখে পাসের সুপারিশ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পাস হওয়া ১৪টি বিলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো:
আইন ও বিচার: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল।
জ্বালানি ও অর্থ: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’, নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) আইন এবং নির্দিষ্টকরণ আইন, ২০২৬।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন), শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল।
অন্যান্য: হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, বাণিজ্যিক আদালত আইন এবং পল্লী উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল।
আজকের অধিবেশনে দুই দফায় বিলগুলো পাস হয়। সকালে ৮টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয় এবং একটি উত্থাপন করা হয়। বিকেলে পাস হয় আরও ৬টি বিল। এছাড়া ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন’ এবং ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন)’ বিল দুটি উত্থাপন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ পাস হবে।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি সরাসরি বাতিল এবং ১৬টি অধ্যাদেশকে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংসদে এই বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে তা সরাসরি পাস হয়। এর মাধ্যমে বিগত সময়ের জরুরি আইনি পদক্ষেপগুলো এখন থেকে দেশের স্থায়ী আইনে পরিণত হলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের সংসদীয় বৈধতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


আপনার মতামত লিখুন :