মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মাঝে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার, রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন সবুজ সংকেত এবং জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়ার মতো ইতিবাচক ঘটনাগুলো সরকারের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব করেছে।
ঈদযাত্রায় যানবাহনের জ্বালানি সংগ্রহে কোনো বাধা থাকছে না। আজ রোববার (১৫ মার্চ) থেকে সারাদেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আপাতত ঈদ উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আজ সকালেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এর ফলে সব ফিলিং স্টেশনে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি কেনা যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে। শনিবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কেউ রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনলে তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।” বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি খাতের আরেকটি বড় সাফল্য হলো কুমিল্লার শ্রীকাইল-৫ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু। শনিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়িয়ে জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের নর্থ ও সাউথ ইউনিট দুটি পুনরায় চালু হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, ইউনিটগুলো চালু হলেও গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে আংশিক লোডে চালানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
ভারত থেকে তেল আমদানিসহ সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে তেলের বাজারে যে হাহাকার ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। যদিও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সংকটের শঙ্কা থেকেই যায়, তবে বর্তমান পদক্ষেপগুলো আসন্ন ঈদে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :