হামের প্রতিষেধক (টিকা) সময়মতো না কেনা এবং স্বাস্থ্য খাতের চরম অবহেলায় দেশজুড়ে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই নালিশি মামলার আবেদনটি দায়ের করেন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী শিশু সাউদা নুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাছলিমা জাহান পপি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আদালত বাদীর বিস্তারিত জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। শুনানি শেষে এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর হিসেবে গণ্য করার আদেশের জন্য আবেদনটি বর্তমানে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
দায়েরকৃত মামলার আবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ছাড়াও তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালককে (ডিজি) আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বাদী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়মিত হামের প্রতিষেধক দেওয়ার কথা থাকলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তহীনতা ও অবহেলার কারণে সময়মতো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে হামের টিকা কেনা হয়নি। ফলে দেশজুড়ে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করে।
আরজিতে আরও বলা হয়, সরকারি হিসাব ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষেধকের অভাবে এবং যথাযথ চিকিৎসার গাফিলতিতে দেশের অন্তত ৬০০ নিরপরাধ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বাদীর নিজের ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তান সাউদা নুসকানও এই টিকার অভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে তীব্র শারীরিক জটিলতায় ভুগে কোল খালি করে চলে যায়। প্রশাসনের এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অবহেলা সাধারণ হত্যাকাণ্ডের শামিল দাবি করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়।
শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি সাংবাদিকদের বলেন, “রাষ্ট্রের নাগরিকদের, বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে টিকার অভাবে ৬০০ শিশুর মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি নীতিগত অবহেলা ও চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা। আমরা আদালতের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”
আদালত বাদীর আরজি ও বক্তব্য আমলে নিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ শেষ করেছেন। আজ বিকেলের দিকে বা পরবর্তী কার্যদিবসে আদালত এই আবেদনের ওপর চূড়ান্ত আদেশ দিতে পারেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :