ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল: দুই দিনে চার জেলায় ঝরল ১৯ প্রাণ

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল: দুই দিনে চার জেলায় ঝরল ১৯ প্রাণ

দেশের মহাসড়কগুলোতে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। চালকদের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং অসতর্কতার কারণে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। গতকাল শুক্রবার এবং আজ শনিবার মাত্র এই দুই দিনের ব্যবধানে দেশের চার জেলায় পৃথক চারটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৯ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে।

এর মধ্যে শুক্রবার বগুড়া, সিলেট ও সিরাজগঞ্জে ১৬ জন এবং আজ শনিবার নাটোরে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত ৪২ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। নিচে গত দুই দিনের এই চারটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

বগুড়ায় বাসের চাকায় পিষ্ট ৬ শ্রমিক: গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।

কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা এই শ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫ জন। দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ সময় পর ওই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সিলেটে দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ৮: শুক্রবার সকালেই আরেক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা থেকে সিলেটগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেট থেকে ঢাকাগামী বেঙ্গল পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুই বাসের বেপরোয়া গতির কারণে এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই আটজন যাত্রী প্রাণ হারান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা মিলে উদ্ধারকাজ চালান। আহত অবস্থায় ১৩ জনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২: শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা ওভারব্রিজ এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে বাসের চালকসহ দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, রাতে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নলকা ওভারব্রিজের নিচের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বাসের চালক ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হতাহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নাটোরে বাস-টেম্পু সংঘর্ষে ৩ গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু: শুক্রবার তিন জেলায় ১৬ জনের মৃত্যুর শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নাটোরে ঝরেছে আরও তিন প্রাণ। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নয়াবাজার এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গরুবাহী টেম্পুর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে টেম্পুর সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একজন গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গুরুতর আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের চার জেলায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার বেহাল দশা। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার অভাব এবং যথাযথ নজরদারির অভাবেই বারবার এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!