ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায়: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১০ জন খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায়: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ্দৌলাসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

নিম্ন আদালতের রায়ে এই মামলার ১৬ আসামির সবারই মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ঘটনার মাত্র সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ ওই আলোচিত রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছিল। আপিলের পর হাইকোর্টের রায়ে সেই ১৬ জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল, চারজনের সাজা কমল এবং ১০ জন খালাস পেলেন।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাত ৯ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ছাড়া নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক এক মামলায় তৎকালীন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এটি ছিল দেশের প্রথম সাইবার ট্রাইব্যুনালে প্রকাশিত কোনো রায়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন বর্তমান হাইকোর্ট বেঞ্চটি গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ১৪ জুন থেকে বেঞ্চের কার্যক্রম এবং ২৮ জুলাই থেকে এই মামলার শুনানি শুরু হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও মুহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানির বিষয়ে বলেছিলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলে তাকে সাজা দেওয়া ঠিক নয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবিরও জোর দিয়ে জানিয়েছিলেন, তারা চান না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা হোক; ন্যায়বিচারের দায়ভার আদালতের ওপর।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!