আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এটিকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, "১৭ বছর পর দেশে ফিরে মানুষের চোখেমুখে বিপুল প্রত্যাশা দেখেছি। একদিকে নির্বাচনের ডামাডোল, অন্যদিকে দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় আম্মাকে (বেগম খালেদা জিয়া) হারানো—ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাওয়াই ছিল আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "আমরা ইনশাআল্লাহ এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবো। একটি `ব্যালেন্সড` (ভারসাম্যপূর্ণ) রাষ্ট্র হতে হলে কাউকে না কাউকে তো বিরোধী দলে থাকতে হবে। সবাই সরকারে চলে আসলে দেশ চলবে কীভাবে?" আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা প্রসঙ্গে তিনি ৫ই আগস্টের উদাহরণ টেনে বলেন, "রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করেও সে টিকে থাকতে পারে না।"
ভারত ও চীন প্রসঙ্গে তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো চুক্তি হলে আমরা দূরত্ব বজায় রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে দেশের মানুষের স্বার্থ। পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ, সবার সাথেই আমাদের সম্পর্ক থাকবে, তবে তা হতে হবে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে।"
বিগত সরকারের আমলে গুম ও খুনের শিকার হওয়া প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, "একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর বিচার হবে না, এটা হতে পারে না।" অন্যদিকে ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিগত স্বৈরাচারী সরকার রাজনৈতিকভাবে আমাদের ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেছে, যার ফলে অনেকে ডিফল্টার হয়েছেন। দুর্নীতি আর পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হওয়া এক জিনিস নয়।"
বিএনপির নির্বাচনী মেনিফেস্টোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ, নারী, প্রতিবন্ধী এবং বয়স্ক—সকলের জন্যই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। দেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :