দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘ল্যান্ডস্লাইড’ বিজয়ের পর দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তুত হওয়া তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছে প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই নয়া দিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদ থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে শুরু করে।
ভারতের ‘পাশে থাকার’ বার্তা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের জন্য তারেক রহমান ও তাঁর জোটকে অভিনন্দন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে সব সময় থাকবে।” তিনি দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক বার্তায় ‘তারেক ভাই’ ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
চীনের নতুন অধ্যায় শুরুর প্রত্যাশা: নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরপরই অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে প্রস্তুত। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বার্তায় একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া: মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এক যৌথ বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে এই সফল নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন আশা প্রকাশ করেছে যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবাধিকার ও সুশাসন আরও জোরদার হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও নতুন সরকারের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পাকিস্তানের অভিনন্দন: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, “নতুন এই রাজনৈতিক পরিবেশ আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ করবে।” তিনি বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
মালয়েশিয়ার অভিনন্দন: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে বলেন, তিনি তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে তাদের বড় নির্বাচনী বিজয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তিনি এটিকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, কঠিন চ্যালেঞ্জের সময় বাংলাদেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখায় তিনি তার ‘প্রিয় বন্ধু’ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নিতে তার দেশ আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :