দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই দেশের জনগণকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় বিএনপির একার নয়; এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের এবং দেশপ্রেমিক জনগণের। আজ থেকে আমরা প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন।” তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ আমাদের জন্য এক ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর রাষ্ট্রযন্ত্র রেখে গেছে। এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই আমাদের নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে।”
নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে তৈরি হওয়া কোনো তিক্ততা যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের কোনো আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। কোনো অজুহাতেই বিচারবহির্ভূত বা আইনবহির্ভূত কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আমাদের আগামীর আদর্শ।”
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ‘ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তাঁর স্বভাবসুলভ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। নির্বাচনে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি মুচকি হেসে বলেন, “জনগণকে কনভেন্স করাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমরা জনগণকে আমাদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা দিয়ে কনভেন্স করতে পেরেছি, এটিই ছিল আমাদের সাফল্যের মূল ইঞ্জিনিয়ারিং।”
তারেক রহমান অঙ্গীকার করেন যে, বিএনপি ঘোষিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই সনদ’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ করে কারাবন্দি ও অসুস্থ অবস্থায় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।


আপনার মতামত লিখুন :