দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় সংসদে বড় পরিসরে ফিরে আসা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার ‘মডেল’ বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতি, আইন প্রণয়ন ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ বা কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বুধবার শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়।
কর্মশালার মূল দিকসমূহ: নতুনদের প্রাধান্য: জামায়াতের এবারের সংসদ সদস্যদের প্রায় ৮০ শতাংশই প্রথমবার নির্বাচিত। সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁদের প্রাথমিক ধারণা দিতেই এই আয়োজন। সাবেক আমলা, নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অভিজ্ঞ সাবেক সংসদ সদস্যরা সেশনগুলো পরিচালনা করেন।
বাজেট বিশ্লেষণ, বিল ও আইনের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজ, প্রোটোকল এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংসদে কেবল বিরোধিতা নয়, বরং পজিটিভ ও গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালনের ওপর জোর দিয়েছেন দলের নীতি-নির্ধারকরা।
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) জানিয়েছেন, সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে এই কর্মশালা তাঁদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ এমপিরা সংসদের ফ্লোরে কীভাবে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য রাখতে হয়, সে বিষয়ে নোট নিয়েছেন।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু। সামনে বাজেট অধিবেশনসহ বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে প্রতি বছর একাধিকবার এ ধরণের ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :