নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সারাদেশে বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়গুলোতে ফেরার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কোথাও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায়, কোথাও শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে আবার কোথাও `ঝটিকা` কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যালয়গুলোতে প্রবেশের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত এবং ২০২৫ সালের মে মাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলটির এই আকস্মিক তৎপরতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দাবি করেছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। ফলে নেতাকর্মীদের সেখানে যেতে বাধা নেই। তিনি বলেন, "ইউনূসের অবৈধ সরকারের বিদায়ের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত হবে—এই আশা থেকেই কর্মীরা কার্যালয়ে যাচ্ছে।"
তবে তৃণমূল সূত্র বলছে, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে তৃণমূল নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং যার যেখানে সম্ভব দলীয় কার্যালয়ে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কর্মসূচি কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের যোগাযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের সমর্থনের আশায় অনেক জায়গায় বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ কর্মীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নির্বাচনের পর তাদের কার্যালয় খুলতে বাধা দেওয়া হবে না। পঞ্চগড়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার ভিডিও এই সমঝোতার তত্ত্বকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিগত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার খবর পাওয়া গেছে: চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও খুলনায় দলীয় কার্যালয় খুলে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যালয় খোলার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মীরা সেখানে হামলা চালায় এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডিতে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে নারী কর্মীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী বাহিনী যেহেতু দেশে আছে, তাই তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া ইতিবাচক হতে পারে।
অন্যদিকে, অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তী সরকারকে গ্রহণ না করলেও নবনির্বাচিত সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেনি। নির্বাচিত সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান বা কার্যক্রম শুরুর একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে এই কার্যালয় খোলার মাধ্যমে।
সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :