সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জয় পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ১৩টিতে সদস্য মনোনীত করার সুযোগ পাচ্ছে দলটি। এই ১৩টি আসনে কারা বসছেন তা নিয়ে এখন দলের ভেতরে-বাইরে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।
সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, দলের নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্যতার বিচারে যে কেউ মনোনীত হতে পারেন।
তিনি বলেন, “প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা থাকলে দলের মধ্য থেকে এমনকি শীর্ষ নেতাদের পরিবার থেকেও সদস্য আসতে পারেন। তবে তা পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতেই দল ফয়সালা করবে।”
শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের বিবেচনায় আসার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, “আমরা সাধারণত যোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দিই। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় আমাদের এমপি নির্বাচিত হয়নি, সেসব এলাকা থেকে যোগ্য নারী সদস্যদের তালিকা আমিরকে দেওয়া হয়েছে।”
জামায়াতের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট কর্মীর ৪৩ শতাংশেরও বেশি নারী। এবার সরাসরি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও জামায়াত নেত্রীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী নির্বাচনে পরিবেশ নারীবান্ধব থাকলে তারা সরাসরি ভোটেও লড়বেন।
নির্বাচন কমিশনের ২৯৬টি আসনের গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি জোট পাচ্ছে ৩৫টি আসন এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াত জোট পাচ্ছে ১৩টি আসন। বাকি ২টি আসন অন্যান্য ছোট দল বা স্বতন্ত্রদের ভাগে যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :