আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠেয় ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তে অটল পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান সরকারের এই ‘রাজনৈতিক’ সিদ্ধান্ত পিসিবিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং টুর্নামেন্টের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পিসিবিকে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মামলার শঙ্কা ও সম্প্রচার চুক্তির মারপ্যাঁচ আইসিসির অফিসিয়াল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি সম্প্রচার চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত। এই ম্যাচটি না হলে কয়েক শ কোটি রুপির বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ হারাবে তারা।
চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে সম্প্রচারকারীরা পিসিবি এবং আইসিসি-উভয়কেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে।
পিসিবির আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইসিসির ‘ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি’তে গিয়েও কোনো লাভ হবে না, কারণ আইসিসি নিজেই এই সম্প্রচার চুক্তির অংশীদার।
৩৫ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যমতে, পিসিবি যদি ম্যাচটি বয়কট করে, তবে আইসিসি পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্বের পুরো অংশ (প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪২৬ কোটি টাকা) আটকে দিতে পারে। এই অর্থ দিয়েই সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ মেটানো হতে পারে। উল্লেখ্য, পিসিবির বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই আসে আইসিসির এই লভ্যাংশ থেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের ‘নিরাপত্তা অজুহাত’ এক্ষেত্রে ধোপে টিকবে না। কারণ: ১. পাকিস্তান ইতোমধ্যেই ভারতের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় তাদের সব ম্যাচ খেলতে সম্মত হয়েছে। ২. ভারত সরকার পাকিস্তানে খেলতে না গেলেও, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে কখনোই বাধা দেয়নি।
বিশাল আর্থিক বাজার একটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৬,১৫০ কোটি টাকা)। শুধু এই একটি ম্যাচের ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম ২৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। ম্যাচটি বাতিল হলে আইসিসির সামগ্রিক আয়ে ধস নামবে, যার নেতিবাচক প্রভাব অন্য সদস্য দেশগুলোর ওপরও পড়বে।
বর্তমানে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পিসিবির সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত পিসিবি বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :