ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News
মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

কুয়েতে তেল শোধনাগারে হামলা, আবুধাবিতে বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

কুয়েতে তেল শোধনাগারে হামলা, আবুধাবিতে বিস্ফোরণ

ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে মোড় নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি শোধন প্ল্যান্ট লক্ষ্য করে ইরান ও তার মিত্ররা ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম মানবিক বিপর্যয় ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।

ইরানি ড্রোন হামলায় কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার মিনা আল-আহমাদিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এই শোধনাগারটিতে এটি তৃতীয় দফা হামলা। এছাড়া কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সমুদ্রের পানি মিষ্টি করার প্ল্যান্টে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) চালানো হামলায় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি গ্যাস কারখানায় পড়লে সেখানেও বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান জ্বালানি ও পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকলে এই শুষ্ক অঞ্চলটি মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে ইরানের অভ্যন্তরেও। ইরানের কারাজ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরেও তারা ইরান থেকে আসা একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিশ্লেষণ করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে এগোচ্ছেন। ট্রাম্প এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজলেও বর্তমানে কোনো পক্ষই সমঝোতার টেবিলে আসার ন্যূনতম ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইরানে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমাতে শাসকরা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; গণহারে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে টহল বাহিনীর বুটের শব্দ আর সাইরেনের আওয়াজে সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবাগুলো যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই অঞ্চলে অদূর ভবিষ্যতে এক নজিরবিহীন শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!